নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেসবুক পেজ হ্যাক, চাঁদা দাবি ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগে আনিছুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. খায়রুল আলম রফিক অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত আনিছুর রহমান, পিতা মৃত আব্দুল হোসেন, সাং- মহেশপুর থানা- মুক্তাগাছা জেলা- ময়মনসিংহের বাসিন্দা, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বাদীর পরিচালিত “দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ” পরিবারের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পত্রিকার pkagoj.com নামক ফেসবুক পেজ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই পেজটি হ্যাক হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারান বাদী। ডিএমপির শেরে বাংলা নগর থানার মামলা নং- ১০ তারিখ ১৬/০৩/২০২৬। মামলা তুলে নিতে সাইবার চক্রের সদস্য শহিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান জিডি করা হয়। যার নং-১২৬। ১৪ এপ্রিল দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রথম পাতায় সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক কে নারী সরবরাহকারী বানানো হয়েছে। এঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। যার নং- ৪৫৭। জিডিতে রোজিনা আক্তারসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর পালিয়ে থেকে সাইবার অপরাধী অভিযুক্ত আনিসুর রহমান অপপ্রচার আরও বেশি করছে। আসামি আনিসুর রহমান একসময় বাদীর গরুর লালন পালন করতেন। তারপর অফিসে চাকরি দিলে ডিজিটাল বিভাগ দেখাশোনা করবে। ফেইজ হ্যাক করে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং তার তিনটি ফেসবুক আইডিসহ একাধিক আইডিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মানহানিকর তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও পোস্ট ছড়ানো হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ রাতে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অভিযুক্ত আনিসুর রহমান ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে পেজ ফেরত না দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে একইভাবে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এ ঘটনায় বাদী শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামি আনিসুর রহমান পলাতক থেকে সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে দৈনিক প্রলয় পত্রিকাসহ একাধিক আইডিতে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
আসামি আনিসুর রহমান বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে হুমকি দেয় যে বাদী মামলা প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো অব্যাহত রাখবে।
সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক জানিয়েছেন, আমার বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। উক্ত ফেসবুক পেইজে অশ্লীল ভিডিও প্রচার করছে। তার তিনটি ফেসবুক আইডিতে আমাকে নিয়ে নিয়মিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর জানান, আসামি আনিসুর রহমান কে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।